মোঃ সিদ্দিকুর রহমান

MD. SIDDIQUR RAHMAN

একজন ‍শিশু মুক্তিযোদ্ধার ওয়েবসাইট

Website of A Child Freedom Fighter

মুক্তিবাহিনী তীব্র আক্রমণের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী পাকিস্তানি বাহিনীর সীমান্ত ঘাঁটিগুলো একে একে দখল করে নিতে শুরু করে। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার বাহিনীর নিয়মিত কাজ ছিল সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করা এবং বাঙালিদের ওপর নির্যাতন করা। সীমান্তে ও দেশের অভ্যন্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচণ্ড আক্রমণের জবাবে তারা এ অত্যাচারের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু অক্টোবরের শেষের দিকে মুক্তিবাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়ে তারা দিনের বেলাতেও নিজেদের সামরিক ঘাঁটি থেকে বের হতে ভয় পেত।

ডিসেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ে। সম্মিলিত আক্রমণের মুখে ইতোমধ্যে পর্যদুস্ত ও হতোদ্যম পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তারা ৯৩,০০০ হাজার সৈন্যসহ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। এরই মাধ্যমে নয় মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে; প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালি জাতির প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ 

বাংলদেশের কিশোর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে একজন সিদ্দিকুর রহমান আমাদের অহংকার। যশোর জেলার সদর উপজেলার গাঁওঘরা গ্রামের গোলাম আলীমোল্যা ও রত্নগর্ভা সখিনা খাতুন দম্পতির ১১ সন্তানের মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান একজন। শৈশবে সিদ্দিক ছিলেন প্রাণচঞ্চল এক দূরন্ত বালক।

স্কুলের ক্লাসের সময় বাদ দিয়ে সারা সময় কাটতো হৈচৈ করে মাঠে বিলে আর বনে বাদাড়ে   টো টো করে ঘুরে বেড়ানো, গুলতি দিয়ে পাখি শিকার করা,বাগানের কাঁচা আম চুরি করে ঝিনুক দিয়ে খোসা ছিলে কলার পাতায় ঝাল লবণ মাখিয়ে খাওয়া, পুকুরে গোসলে নামলে দূরন্ত এই   বালকের কেটে যেতো ঘন্টারপর ঘন্টা আর দুই চক্ষু কোকিলের মত লাল না হওয়া পর্যন্ত পুকুর থেকে উঠতো না। এমনই দুরন্তপনায় কাটতো তার ছেলেবেলার দিন। এ নিয়ে মায়ের হাতেকতো না ছোট খাট পিটুনি আর বকুনি খেয়েছে। এই দূরন্ত দুষ্টুমীপনার মধ্যেও সিদ্দিক লেখা পড়ায় ছিল অত্যন্ত মেধাবী।

 

Comment Here

754091
Scroll to Top
Scroll to Top